Shahadat Shuvo December 4, 2018

ডিপ্রেশন – এক অভিজাত রোগের নাম

৮ বছর হয়ে গেল পরিবার ছেড়ে বাইরে থাকি। এই ৮ বছর পরিবার ছেড়ে থাকলেও কখনো কোনো কারণে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তা মাথায়ও আসেনি। শুধু আমি না, আমরা যারা গ্রাম থেকে উঠে আসছি তাদের অধিকাংশেরই এই ধরণের চিন্তা মাথায় আসে না।

এখনকার শহর কেন্দ্রিক পোলাপানের একটা অভিজাত রোগ হয়েছে, যার নাম ডিপ্রেশন।
পরীক্ষা খারাপ হয়েছে – ডিপ্রেশনে আছি
স্কুলের স্যার বকা দিয়েছে – ডিপ্রেশনে আছি
দুই দিন ধরে কষা হচ্ছে – ডিপ্রেশনে আছি

ক্লাস টেন এ থাকতেও ক্লাসে বই না আনার জন্যে টেবিলের নিচে মাথা ডুকিয়ে স্যার বেত দিয়ে পাছায় আদর করেছিলো তাও আবার মেয়েদের সামনে। কই আমরা তো এগুলো নিয়ে ডিপ্রেশনে ভুগি নি। ক্লাস শেষ হওয়ার পরেই মাইরের কথা ভুলে যেতাম, ভুলে গিয়ে দেখা যেত পরদিন আবারও বই আনিনি। ফলাফল আবার স্যারের হুঙ্কার, “কল্লা ডুকা (টেবিলের নিচে)”।

এখনকার পোলাপান এর ডিপ্রেশন কিংবা আত্নহত্যার পেছনে সবচেয়ে বড় দায়টা অভিভাবকদের। সকাল সন্ধ্যায় ২/৩ টা প্রাইভেট টিউটর, কোচিং সেন্টার, নাচের শিক্ষক, গানের শিক্ষক আরো কত কি। পোলাপান বিনোদনের জন্য কোনো সময়ই পায় না, তাদের বিনোদনের একমাত্র উৎস সাড়ে পাঁচ ইঞ্চির ঐ স্মার্টফোন, যার ভেতরের অধিকাংশ কনটেন্টই হতাশা বাড়ানোর টনিক হিসেবে কাজ করে।

স্কুলে থাকাকালীন আমাদের দিনের ৩/৪ ঘন্টা ফুটবল আর ক্রিকেটে চলে যেত। কিন্তু, এই শহরে খেলার যায়গা কই? তো বিনোদনের ঘাটতিটা তো অভিভাবককে পোষাতে হবে। সন্তানকে বন্ধু ভাবতে হবে, একসাথে বসে লুডু খেলতে হবে। ছুটির দিনগুলোতে ঘুরতে বের হতে হবে। মাঝেমাঝে রাত জেগে বাবা ছেলে একসাথে ইউরোপীয় ফুটবলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে।

আর সবচেয়ে বড় কথা যা কিছুই হোক নিজেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। দেশে গড়ে দৈনিক ২৯ জন আত্নহত্যা করে। এটা কোনো সমাধান হতে পারে না। একটু স্ট্রাগল করে কয়টা দিন বেঁচেই দেখুন না, দেখবেন পৃথিবীটা কত সুন্দর।

” আকাঙ্ক্ষা আর হতাশায় হারিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই।”

ক্যাটেগরিঃঅনুপ্রেরণীয়